মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

ভুমি বিষয়ক তথ্য

পটভূমিকা

 

 

বাংলাদেশের দক্ষিণ পূর্বাংশে পাহাড়, পর্বত, হ্রদ, নদী ও অরণ্য শোভিত বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল। ১৮৬০ সনে এ অঞ্চলকে জেলার মর্যাদা প্রদান করা হয়। ইতঃপূর্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল কার্পাস মহল (১৭১৫-১৮৬০) নামে পরিচিত ছিল। পরবর্তীতে বৃহত্তম পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার দু’টি মহকুমা বান্দরবান ও খাগড়াছড়িকে যথাক্রমে ১৯৮১ ও ১৯৮৩ সনে স্বতন্ত্র জেলায় ঊন্নীত করা হয়। বর্তমানে ৬১১৬.১৩ বর্গ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার অবস্থান। এ জেলার সীমানা উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা, দক্ষিণে বান্দরবান পার্বত্য জেলা ও মায়ানমার(বার্মা), পূর্বে ভারতের মিজোরাম রাজ্য এবং পশ্চিমে খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রাম জেলা।

 

জেলা সৃষ্টির পূর্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম কতিপয় রাজা বা নরপতি কর্তৃক ঐতিহ্যবাহী শাসন ব্যবস্থায় শাসিত হত। ১৮৬০ সনে এ অঞ্চলকে জেলায় রূপামত্মর করে সরাসরি ব্রিটিশ শাসনাধীনে আনা হয়। সম্ভবতঃ ১৮৬৬ সনে চট্টগ্রাম জেলার দক্ষিণাঞ্চলকে নিয়ে ¢বোমাং সার্কেল’ এবং উত্তর পশ্চিমাংশ নিয়ে ¢মং সার্কেল’ সৃষ্টি করা হয়। এভাবে সমগ্র পার্বত্য চট্টগ্রামকে চাকমা, বোমাং ও মং সার্কেলে বিভক্ত করে তিন সার্কেল চীফের অধীনে ন্যসত্ম করা হয়। চীফগণ হেডম্যান বা মৌজা প্রধান ও কার্বারী বা গ্রাম প্রধানদের সহযোগিতায় রাজস্ব প্রশাসন পরিচালনা করেন। পরবর্তীতে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত উপজাতীয়দের স্বতন্ত্র ও স্বকীয় সত্ত্বা সংরক্ষণের লক্ষ্যে ১৯০০ সনে পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসন বিধি প্রবর্তন করা হয়। বর্তমানেও উক্ত শাসন বিধি কতিপয় সংশোধন সাপেক্ষে বলবৎ আছে। তবে কালের বিবর্তনে এ জেলার শাসন ব্যবস্থায় অনেক পরিবর্তন এসেছে। এ অঞ্চলে বসবাসরত অনগ্রসর জনগোষ্ঠির সর্বাঙ্গীন উন্নয়নের লক্ষ্যে তিন পার্বত্য জেলায় স্থানীয় সরকার পরিষদ স্থাপনকল্পে ১৯৮৯ (সংশোধিত ১৯৯৮) সনে স্থানীয় সরকার পরিষদ আইন সমূহ প্রবর্তন করা হয়। সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রাম শামিত্মচুক্তির আলোকে পরিষদ সমূহকে অধিকতর ক্ষমতা প্রদানের লক্ষ্যে আইন সমূহ সংশোধন করা হয়েছে।

 

এ অঞ্চলের উপজাতীয় সমস্যার স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের লক্ষে এবং উপজাতীয় অধিবাসী সহ পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সকল নাগরিকের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক অধিকার সমুন্নত করার লক্ষ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের আওতায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও অখন্ডতার প্রতি পূর্ণ আস্থা ও অবিচল আনুগত্য রেখে ডিসেম্বর ২, ১৯৯৭ তারিখে পার্বত্য চট্টগ্রাম সংক্রামত্ম জাতীয় কমিটি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জন সংহতি সমিতি ¢পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি’ সম্পাদন করেন। এ চুক্তি বাসত্মবায়নের অংশ হিসেবে তিনটি পার্বত্য জেলার জেলা পরিষদ (স্থানীয় সরকার পরিষদ) সমূহের কার্যক্রম তত্ত্বাবধান, সমন্বয় সাধন ও আনুসাঙ্গিক কার্যাদি সম্পাদনের নিমিত্তে একটি আঞ্চলিক পরিষদ স্থাপনের লক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন, ১৯৯৮ প্রবর্তন করা হয়। এ আইন প্রবতর্নের ফলে এ অঞ্চলের শাসন ব্যবস্থায় আমুল পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে।

 

উলেস্নখ্য যে, পার্বত্য জেলা সমূহের ভূমি ব্যবস্থাপনা দেশের অন্যান্য জেলা হতে ভিন্নতর। এ জেলার ভূমি ব্যবস্থাপনা এখনো ১৯০০ সনের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসন বিধি অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে।

 

 

রাজস্ব কাঠামো

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার ১০টি উপজেলার মধ্যে রাঙ্গামাটি সদর ও লংগদুতে উপজেলা ভূমি অফিস রয়েছে। এ জেলার ভূমি ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব প্রশাসন ঐতিহ্যবাহী প্রথানুযায়ী পরিচালিত হয়। এ জেলায় একজন সার্কেল চীফ (চাকমা রাজা) এবং ১৫৫ জন মৌজা প্রধান বা হেডম্যান রাজস্ব প্রশাসনের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। এ জেলার ১৫৯টি মৌজার মধ্যে ১৪৫টি চাকমা সার্কেলভূক্ত এবং ১৪টি বোমাং সার্কেলভূক্ত। এতদঞ্চলে গ্রাম প্রধান বা কার্বারীরা রাজস্ব বা খাজনা আদায়ে হেডম্যানকে সহায়তা করে থাকেন। এভাবে রাজা বা সার্কেল চীফ-হেডম্যান-কার্বারী সামাজিক কাঠামোটি এখনও কার্যকর রয়েছে। সার্কেল চীফ ও হেডম্যানগণ আদায়কৃত রাজস্ব বা খাজনা হতে নির্ধারিত হারে কমিশন পেয়ে থাকেন। এছাড়া চীফ মাসিক ১০০০০/- (দশ হাজার) টাকা, হেডম্যান মাসিক ১০০০/- (এক  হাজার) টাকা এবং কার্বারী মাসিক ৫০০/- (পাচ শত) টাকা হারে সরকারী ভাতা পেয়ে থাকেন।জেলার প্রশাসনকে আরও গতিশীল করার জন্য অবশিষ্ট উপজেলা সমূহকেও রাজস্ব অবকাঠামোর আওতায় আনা প্রয়োজন।

 

উপজেলাওয়ারী চীফ, হেডম্যান ও কার্বারীর সংখ্যা নিম্নরূপঃ-

 

ক্রমিক নং

উপজেলার নাম

চীফের সংখ্যা

হেডম্যানের সংখ্যা

 

কার্বারীর সংখ্যা

১.

২.

৩.

৪.

৫.

৬.

৭.

৮.

৯.

১০.

রাঙ্গামাটি

লংগদু

কাপ্তাই

রাজস্থলী

বিলাইছড়ি

জুরাছড়ি

বরকল

নানিয়ারচর

কাউখালী

বাঘাইছড়ি

০১

-

-

-

-

-

-

-

-

-

২৩

২৫

০৮

০৯

০৮

১১

২৮

১৯

১০

১৬

১২২

১০২

৬১

৯২

৪৯

৫২

১০০

১১৭

১০৩

১৩০

 

মোট

০১

১৫৫

৯২৮

 


খাস জমি বন্দোবস্ত সংক্রান্ত

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার মোট জমির পরিমাণ ৮,৯৪,২২৩.৩০ একর। উক্ত জমি হতে ১৯৮৯ পর্যন্ত ১,৫৬,৮২৭.৬৮ একর জমি বন্দোবস্ত প্রদান করা  হয়েছে। বন্দোবস্ত বাদে অবশিষ্ট জমির পরিমাণ ৭,৩৭,৩৯৪.৭২ একর। রেকর্ডদৃষ্টে দেখা যায়, কাপ্তাই হ্রদের পরিমাণ ৮১,৯২০ একর। এ জেলায় বন্দোবস্তযোগ্য কৃষি জমির পরিমাণ হলো ৭৭,১৫৫.৮৬ একর এবং অ-কৃষি জমির পরিমাণ ২,৩১,৭৬৭.৫৯ একর। সে হিসাবে মোট বন্দোবস্ত অযোগ্য জমির পরিমাণ ৩,৪৬,৫৫১.২৭একর। রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার উপজেলাওয়ারী মোট জমি ও বন্দোবস্তকৃত জমির হিসাব বিবরণী নিম্নে প্রদান করা হলোঃ-

ক্রমিক নং

উপজেলার নাম

মোট জমির পরিমান

বন্দোবস্তকৃত জমির পরিমাণ (একরে)

মোট বন্দোবস্তকৃত জমির পরিমাণ

অবশিষ্ট জমি

কৃষি

অকৃষি

১.

২.

৩.

৪.

৫.

৬.

৭.

৮.

৯.

১০.

রাঙ্গামাটি

লংগদু

কাপ্তাই

রাজস্থলী

বিলাইছড়ি

জুরাছড়ি

বরকল

নানিয়ারচর

কাউখালী

বাঘাইছড়ি

১,৩৪,৯৬৩.২০

১.০২,৭৩১.৬০

৫২,৭০৪.০০

৩৪,৫৮২.০০

৪৫,৯০৭.২০

৮৪,০৯৬.০০

১,৮৫৬০৬.৪০

৯৫,৮০৫৯.২০

৭৪,২৫২.৮০

৮৩,৫২০.০০

২৪০.৩৮

২,৭৭৮.৭১

৬,৮৭৮.০০

৩,১৪৪.৯৫

নাই

৫,০০.০০

১৭৬.৩১

৬৭৬.৪৯

৭,৮০১.৭৯

১০,৬১৯.৮৫

২৩,৭৭৩.০৯

১৭,৩৩১.৭৭

৭,৭৭৯.১৮

৭,৪৯২.৬৯

৪,৭৪২.২০

৪,৫৩০.৪১

১৭,৮৪২.৩৬

১৬,৯৬১.৩২

১৪,৭০১.৯৮

৯,৪০৭.৫২

২৪,০১৩.৪৭

২০,১১০.৪৮

১৪,৬০১.৯৬

১০,৬৩৭.৬৪

৪,৭৪২.২০

৪,৫৩৫.৪৮

১৮,০১৮.৬৭

১৭,৬৩৭.৮১

২২,৫০৩.৭৭

২০,০২৬.৫৪

১,১০,৯৪৯.৭৩

৮২,৬২১.১২

৩৮,১০২.০৪

২৩,৯৪৪.৩৬

৪১,১৬৫.০০

৭৯,৫৬০.৫২

১,৬৭,৫৮৭.৭৩

৭৮,২২১.৩৯

৫১,৭৪৯.০৩

৬৩,৪৯২.৬৩

 

মোট

৮,৯৪,২২২.৪০

৩২,২৬৬.২৬

১,২৪,৫৬২.৫২

১,৫৬,১৬৯.৭৮

৭,৩৭,৩৯৩.৬২

 

সংরক্ষিত বনাঞ্চল

(1)    রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলের হিসাব নিম্নে প্রদান করা হলোঃ-

 

ক্রমিক নং

বনের নাম

জমির পরিমাণ (বর্গমাইল)

বনমুক্তকৃত জমির পরিমাণ (বর্গমাইল)

অবশিষ্ট জমির পরিমাণ (বর্গমাইল)

মন্তব্য

১.

২.

৩.

৪.

৫.

৬.

৭.

কাচালং

বরকল

ঠেগা

সুবলং

রাঙ্গামাটি

রানিখ্যা

সীতাপাহাড়

৬৪৪.০০

০.৫০

৭০.০০

৩২.০২

০.৫০

২১৫.০০

২৩.১৫

৬০.৫৭৭

-

-

-

-

-

১.৩২৭

৫৮৩.৪২৩

০.৫০

৭০.০০

৩২.০২

০.৫০

২১৫.০০

২১.৮২৩

জুরিডিকশন লিষ্ট, ১৯২৫ হতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্ত্ততকৃত

 

সর্বমোট

৯৮৫.১৭

৬১.৯০৪

৯২৩.২৬৬

 

(২) এ জেলায় ১৯৭২ সনের বন আইনের ৪ ধারার (১) উপধারার (ক) অনুচ্ছেদের ক্ষমতা বলে ১৯৯১-৯২ সনে ৭টি উপজেলার ৮৭,৬৬২.৪২ একর জমি সংরক্ষিত (Protected)বনাঞ্চল হিসেবে ঘোষণা বরা হয়। নিম্নে উপজেলাওয়ারী বনাঞ্চলের হিসাব প্রদান করা হলোঃ-

(ক) রাঙ্গামাটি সদর                         ঃ   ৭,০০০.০০ একর

(খ) নানিয়ারচর                              ঃ ১৫,০০০.০০ একর

(গ) লংগদু                                    ঃ   ৭,৫১৪.০৬ একর

(ঘ) রাজস্থলী                                 ঃ ২৭,২৮৫.৮৬ একর

(ঙ) বিলাইছড়ি                               ঃ   ৮,৩৬৪.০০ একর

(চ) কাউখালী                                ঃ ১২,৯২০.৭৪ একর

(ছ) কাপ্তাই                                   ঃ   ৯,৫৭৭.৭৬ একর

 

                                                                      সায়রাত মহাল

   রাঙ্গামটি পার্বত্য জেলায় ৩০ টি সায়রাত মহাল রয়েছে।এর মধ্যে ২০টি ফেরিঘাট, ৬ টি জলমহাল এবং ৩ টি শন খোলা রয়েছে।

 

(চ) হাট বাজার

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলায় মোট ৪৪টি হাট-বাজার রয়েছে। এ জেলায় হাট-বাজারের ব্যবস্থাপনা জেলা পরিষদের উপর ন্যস্ত। জেলা পরিষদ নিয়ন্ত্রণাধীন বাজার ফান্ড প্রশাসন এ সকল হাট-বাজারের ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন ও তত্ত্বাবধান করে থাকে।